Basanti Hey Bhubanmohini (বাসন্তী হে ভুবনমোহিনী) Lyric

Basanti Hey Bhubanmohiniএই পোষ্টের মাধ্যমে আমি যে গানের লিরিক্স শেয়ার করবো সেই গানের একটা গল্প আছে। লিরিক্স শেয়ার করার আগে গল্পটা বলে নেই। যখনি আপনি এই গানটি শুনবেন এই গল্পের কথা তখন মনে পড়বে

Savithri Govinda Krishnan এক প্রতিভাময়ী গায়িকা। তাঁর গানে মুগ্ধ হয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১২ বছরের মেয়েটিকে Adyar এর Anny Besant স্কুল থেকে শান্তিনিকেতনে নিয়ে আসেন স্কলারশীপ দিয়ে। তো একদিন দুপুর বেলার ঘটনা। তখন ১১ টা বাজে; টিফিনের সময় - এবার আহার করার পরে একটু বিশ্রাম করে আবার ক্লাস শুরু। সাবিত্রী দেবী কলাভবন থেকে ছাত্রী আবাসে এসে কেবল বই খাতার বোঝাটা নামিয়েছেন 

ঠিক সেই সময়ে - তত্ত্বাবধায়িকা হেমলতা দি এসে হাজির; তিনি এসে বললেন - সাবিত্রী! তোমার জন্যে গুরুদেব লোক পাঠিয়েছেন। তুমি এখুনি যাও তাঁর কাছে বনমালীর সংগে। সাবিত্রীর তখন প্রচন্ড খিদে পেয়েছে। তিনি বললেন - খাওয়ার পরে যাই? উত্তরে হেমলতা দি বললেন - তোমার খাবার ঢাকা দেয়া থাকবে, লক্ষ্মী মেয়ে; গুরুদেব ডাকছেন আগে দেখা করে এসো। সে অপেক্ষা করছে। 

অত্যন্ত অনিচ্ছায় সাবিত্রী পরিচারক বনমালীর সংগে উত্তরায়ণে এলেন। গুরুদেব একা একটা ঘরে বসে পা দোলাচ্ছেন। সাবিত্রীকে দেখেই বললেন- বসো সাবিত্রী, একটা গান করো আমার জন্য। এই দুপুর বেলায় স্নান করা নেই, খাওয়া নেই এরকম একটা অবস্থায় গান? সাবিত্রী তো রীতিমত অবাক। 

গুরুদেব একটু ধমকের স্বরে বললেন- শিগগিরি আরম্ভ করো সেই গান। যেটা Adyar এ আমাকে প্রথম শুনিয়েছিলে। থতমত খেয়ে সাবিত্রী আরম্ভ করে মিনাক্ষী (Meenakshi) দেবীর ভজন। গুরুদেব বললেন - আর একটু ধীর গতিতে। তখন ধীর গতিতে আবার গাওয়ার পর তিনি বললেন - একটু কাগজ দাও আমাকে। 

সাবিত্রীর কাছে কিছুই নেই... গুরুদেব ধমকে বললেন - কিছু নেই? ওই সামনের ময়লা কাগজের ঝুড়ি থেকে আনো শিগগিরি। সেখানে ফেলে দেয়া কাগজ ঘেটে একটা বড় খাম পেয়ে সাবিত্রী সেটা এনে দিলেন গুরুদেবের কাছে আর গুরুদেব তাঁর উল্টো পিঠে লিখলেন - "বাসন্তী, হে ভুবনমোহিনী"  

বললেন তোমার Meenakshee me mudam dehi me এসবের বদলে আমার কথাগুলো দিয়ে গান গাও। সাবিত্রীর পেটে তখন রীতিমত অগ্নিকান্ড। গলা দিয়ে গানের গ ও আসছে না। সে কথা সে গুরুদেবকে বলেই ফেললো। গুরুদেব বললেন- চিন্তা করো না! তোমার জন্য দইবড়া, রসম সব আয়োজন করে রেখেছে বউমা। তোমার যতইচ্ছে খেয়েও তবে আগে গানটা ত শেষ করো।

সাবিত্রী তখন অনেক কষ্টে বাংলা কথায় দক্ষিণ ভারতীয় সুরে গাইলো বাসন্তী, হে ভুবনমোহিন

গুরুদেব তখন সংগে সংগে ডাকলেন দীণু বাবুকে। দীণুবাবু তখন দুপুর বেলা ঘুমোচ্ছেন এবং সেই ঘুম ভেঙ্গে যাওয়াতে সে মহা বিরক্ত। তিনি বিশাল চেহারা নিয়ে ভ্রু-কুচকে এসে দাড়ালেন। গুরুদেব সাবিত্রীকে দিয়ে আবার সেই গান খানা গাওয়ালেন। তখন দীণুবাবুর বিরক্তি এবং কুঞ্চিত মুখটা ধীরে ধীরে করুণ হয়ে উঠলো।

গানের শেষে তিনি অশ্রুজল নিয়ে বললেন - রবী'দা কোথা থেকে তুমি এরকম কথা গুলি পাও? গুরুদেব একটু হেসে বললেন - এবারে কোলকাতায় নিউ এম্পায়ারে বসন্তের নবীন উৎসবের প্রথম গান হবে এটি। আর গাইবে সাবিত্রী। আরো জানতে এখানে ক্লিক করুন

🎵 গানের নাম - বাসন্তী হে ভুবনমোহিনী

🎧 Song Credits: 
🎵 গান - Basanti Hey Bhubanmohini
🎬 অ্যালবাম - জানা যায় নি

Basanti Hey Bhubanmohini Song Lyrics 👇

বাসন্তী, হে ভুবনমোহিনী
দিকপ্রান্তে, বনবনান্তে,
শ্যাম প্রান্তরে, আম্রছায়ে (x2)
সরোবরতীরে, নদীনীরে
নীল আকাশে, ময়লবাতাসে
ব্যাপিল অনন্ত তব মাধুরী॥
বাসন্তী... 

নগরে গ্রামে কাননে, দিনে নিশীথে (x2)
পিকসঙ্গীতে নৃত্যগীতকলনে-
পিকসঙ্গীতে, নৃত্যগীতকলনে বিশ্ব আনন্দিত।
ভবনে ভবনে বীণাতান রণ-রণ ঝঙ্কৃত।
বীণাতান রণ-রণ ঝঙ্কৃত

মধুমদমোদিত হৃদয়ে হৃদয়ে রে (x2)
নবপ্রাণ উচ্ছ্বসিল আজি
বিচলিত চিত উচ্ছলি-
বিচলিত চিত উচ্ছলি উন্মাদনা
ঝন-ঝন ঝনিল মঞ্জীরে মঞ্জীরে
বাসন্তী, হে ভুবনমোহিনী

আরো দেখুন 👇

🔊 আমার মতামত - কবিগুরুর গান গুলো শুনলে মনের ক্লান্তি গুলো দূর হয়ে যায় আর তখন মনটা ফ্রেস ফ্রেস লাগে। যতো সময় যায় ততই যেনো কথা গুলোর মানে বুঝতে পারা যায় আর অন্য রকম একটা অনুভূতি হয়। আমার মনে হয় এই গান গুলো জীবন এর জন্য ❤️

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম