Bagichay Bulbuli Tui (বাগিচায় বুলবুলি তুই) Lyric

Bagichay Bulbuli Tui

দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ছেলে দিলীপ কুমার রায়ের ভীষন অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। বন্ধু নয়, নিজের ভাইয়ের মত ভালোবাসতেন দিলীপ রায়। নজরুল ও দাদা বলে মাথায় করে রাখতেন তাঁকে। নজরুলের গজলকে জনপ্রিয় করার অন্যতম কারিগর ছিলেন এই দিলীপ রায়।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দ্বিজেন্দ্রগীতি এবং নিজের গান পরিবেশনের মাঝে দিলীপ রায় নজরুলের বাংলা গজল পরিবেশন করতেন। তার প্রিয় একটি গজল ছিলো- বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুল শাখাতে দিসনে আজি দোল

এই গানটি এতটাই জনপ্রিয় ছিলো যে, তখন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই গানের অনুরোধ আসতো বারবার। আর এই গানটির অসামান্য জনপ্রিয়তায় নজরুল তার গজল গীতিগুচ্ছ বুলবুল উৎসর্গ করেছিলেন দিলীপ রায়কে। খুব সহজেই এবং কম সময়েই নজরুল গান সৃষ্টি করতে পারতেন।

আজকের এই পোষ্টের মাধ্যমে আমি শেয়ার করবো দিলীপ রায়ের প্রিয় সেই গজলটির লিরিক্স। সত্যি বলতে এরকম নানান গল্প জড়িয়ে আছে এই সমস্থ গান রচনার ক্ষেত্রে যেগুলো আমরা জানিই না আসলে...

🎵 গানের নাম - বাগিচায় বুলবুলি তুই

🎧 Song Credits: 
🎵 গান - Bagichay Bulbuli Tui
🎬 অ্যালবাম - All Time Greats

Bagichay Bulbuli Tui Song Lyrics 👇

বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুলশাখাতে
দিসনে আজি দোল ।
আজো তার ফুলকলিদের ঘুম টুটেনি
তন্দ্রাতে বিলোল ।।

আজো হায় রিক্ত শাখায় উত্তরী বায়
ঝুরছে নিশিদিন
আসেনি দখনে হাওয়া গজল গাওয়া
মৌমাছি বিভোল ।।

কবে সে ফুল-কুমারী ঘোমটা চিরি
আসবে বাহিরে ,
শিশিরের স্পর্শসুখে ভাঙবে রে ঘুম
রাঙবে রে কপোল ।।

ফাগুনের মুকুল – জাগা দুকুল ভাঙ্গা
আসবে ফুলের বান ,
কুড়িদের ওষ্ঠপুটে লুটবে হাসি ,
ফুটবে গালে টোল ।।

কবি তুই গন্ধে ভুলে ডুবলি জ্বলে
কুল পেলিনে আর
ফুলে তোর বুক ভরেছিস আজকে জলে
ভরবে আখির কোল ।।

বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুলশাখাতে
দিসনে আজি দোল ।

আরো দেখুন 👇

🔊 কিছু কথা - এই গানটা প্রথম রেকর্ড হয়েছিলো ১৯২৮ সালে। শিল্পী ছিলেন মুন্সী মহম্মদ কাসেম। এই মুন্সী মহম্মদ কাসেম কিন্তু বাংলায় কে. মল্লিক নামে বেশ পরিচত ছিলেন। তিনি একজন বাঙালি গায়ক এবং পাশাপাশি একজন গ্রামোফোন কণ্ঠশিল্পী।  

ব্যঙ্গচিত্রী ও লেখক চণ্ডী লাহিড়ী লিখেছেন, কে. মল্লিকের  ভজন ও শ্যামাসংগীত এক সময় খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। তাঁর গান শুনে সে সময়ে চোখের জল ফেলতেন প্রবীণারা অথচ এই কে. মল্লিক একসময় তুলাপট্টিতে চামড়ার গুদামে কাজ করতেন। অসাধারন প্রতিভাধর এই ছেলেটি একটু বেশি মাইনে এবং দুবেলা দুমুঠো খাবারের জন্যে একদিন সে পাড়ি দিলো কানপুর। কানপুরে সে আবদুল হাই হাকিমের কাছে উচ্চসংগীত শিখতেন। 

একদিন বন্ধুদের অনুরোধে, তুলাপট্টির মোড়ে গান ধরলেন হঠাৎ ঘোর ভাংলো পুশিলের ডাকে। রাস্তায় যানজট শুরু হয়ে গিয়েছিলো। সেই যানজটে আটকে ছিলেন একজন রেকর্ড কম্পানির মালিক। সেই রেকর্ড কম্পানির মালিক গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি তাঁকে গান রেকর্ড করার আমন্ত্রণ জানালেন। এরপরের দিন দুটো ভক্তিগীতি রেকর্ড করার পরে সেই সময়ে পেয়েছিলেন নগদ ৩০০ টাকা। 
 
তবে সমস্যা টা হয়েছিলো তার নাম নিয়ে। মুসলমান শিল্পী হয়ে হিন্দুধর্মের ভক্তিমূলক গান গাওয়া! রেকর্ড বিক্রি হবে তো? তখন কম্পানির মাথায় হাত। পরবর্তীতে তার নাম সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছিলেন গোরাচাঁদ মল্লিক নামে তার এক শুভাকাঙ্ক্ষী। নিজের পদবী মল্লিক ব্যাবহার করতে দিলেন তাঁকে। 

অনেকের ধারনা মতে, মহম্মদ কাসেম বা কে. মল্লিক ছিলেন গোরাচাঁদ মল্লিকের গাড়ির ড্রাইভার। প্রথমত, সে ড্রাইভার তার ওপর ছিলেন মুসলমান। মুসলমানের গলায় শ্যামাসংগীত সেই সময়ে রক্ষণশীল সমাজ গ্রহণ করবেন কিনা সন্দেহ ছিল গোরাচাঁদের মনে। 

মহম্মদ কাসেমের গলায় গানের জাদুকরি সুর ছিল। কাসেমের কে এবং গোরাচাঁদের মল্লিক থেকে মল্লিক নিয়ে কে. মল্লিক নামে ভজন ও শ্যামাসংগীত রেকর্ড করিয়ে বাজারে ছাড়া হল সেই রেকর্ড। সে রেকর্ড হিট করল অচিরেই। তিনিই ছিলেন প্রথম মুসলমান রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী। 

🔊 আমার মতামত - গান টা শুনার পর অনুভূতি প্রকাশ করতে না পারার জন্য নিজের ই আফসোস লাগে মাঝে মাঝে। যে গান শুনে হৃদয়ে তোলপাড় ওঠে সে গান চিরদিন বেঁচে থাকে এটাই স্বাভাবিক। নজরুল প্রেমের গানের কবি। পৃথিবীর আর কোন কবি এত মধুর গান লিখেছেন বলে মনে হয় না। 

কি অপূর্ব, মন ভরানো সুর আর কথা। মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের  এর গায়কীতে যেনো এতো সুন্দর কথা আর সুর প্রাণ পায়। অসাধারন কণ্ঠ্যের সুরের জাদু। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা, আপনার সুর যেন আরও বহু বছর যেন আমাদের মন্ত্র মুগ্ধ করে রাখে। 

'বাগিচায় বুলবুলি তুই ফুলশাখাতে দিস নে আজি দোল'; এই গানটা ফেরদৌস আরা ও গেয়েছেন , কিন্তু মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায় যে ভাবে গেয়েছেন তা অতুলনীয়, আমার মতে। তোমার মত কবি আর বাংলায় জন্ম হবে না, কাজি নজরুল ইসলাম তুমি সারা বিশ্ব নাড়িয়ে দিলে ❤️

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম