Eto Jal O Kajal Chokhe (এত জল ও কাজল চোখে) Lyric

Eto Jal O Kajal Chokhe

দিলীপ কুমার রায়ের ভীষন অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। বন্ধু নয়, নিজের ভাইয়ের মতই ভালোবাসতেন দিলীপ রায়। নজরুল ও দাদা বলে মাথায় করে রাখতেন তাঁকে।

একদিন দিলীপ রায় ধরলেন নজরুলকে বললেন- কাজী ভাই আজ আমাকে অমুক সভায় গজল গাইতে হবে। তুমি লিখে দাও একটা নতুন গজল। নজরুল তখন হেসে বললেন- "এ আর বেশি কথা কি দিলীপ দা" এটা বলেই দিলীপ রায়ের খাতা টেনে নিয়ে একটানা লিখতে বসলেন গান। 

কি গান ছিলো জানেন? গানটি ছিলো "এতজল ও কাজল চোখে পাষানী আনলো বলো কে"। এই গানটি তিনি গাইতেন হিন্দুস্তানি লোক-সংগীতের ঢঙে। পরবর্তীকালে গানটি শুনে অতুল প্রসাদ সেন এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তিনি  লিখেছিলেন -  

"জল বলে চল, মোর সাথে চল 
তোর আঁখিজল, হবে না বিফল, কখনো হবে না বিফল"

এরকম নানা গল্প জড়িয়ে আছে এমন গান রচনার ক্ষেত্রে। এই পোষ্টের মাধ্যমে আমি "এত জল ও কাজল চোখে" এই গানের লিরিক্স শেয়ার করবো

🎵 গানের নাম - এত জল ও কাজল চোখে

🎧 Song Credits: 
🎵 গান - Eto Jal O Kajal Chokhe
🎬 অ্যালবাম - All Time Greats

Eto Jal O Kajal Chokhe Song Lyrics 👇

এত জল ও-কাজল চোখে
পাষানী আনলে বল কে ?
টলমল জল মোতির মালা
দুলিছে ঝালর-পলকে ।।

দিল কি পুব-হাওয়াতে দোল ,
বুকে কি বিঁধিল কেয়া?
কাঁদিয়া কুটিরে গগন
এলায়ে ঝামর অলকে।।

যে পথে নীর ভরণে যাও
বসে রই সে পথ-পাশে
দেখি নিত কার পানে চাহি
কলসীর সলিল ছলকে ।।

বুকে তোর সাত সাগরের জল
পিপাসা মিটল না কবি ,
ফটিক – জল ! জল খুঁজিস যেথায়
কেবলি তড়িৎ ঝলকে ।।

এত জল ও-কাজল চোখে
পাষানী আনলে বল কে ?
টলমল জল মোতির মালা
দুলিছে ঝালর-পলকে ।।

আরো দেখুন 👇

🔊 কিছু কথা - এই গানটা প্রথম রেকর্ড হয়েছিলো জুলাই ১৯২৮ সালে। শিল্পী ছিলেন আঙ্গুরবালা দেবী।আঙ্গুরবালার পিতৃদত্ত নাম ছিল প্রভাবতী দেবী। তিনি একজন ভারতীয় কণ্ঠশিল্পী ও মঞ্চাভিনেত্রী। নজরুল গীতিতে সে সময়ে তার বেশ প্রসিদ্ধি ছিল। আঙ্গুরবালা সে সময়ে- খেয়াল, ঠুংরি, দাদরা ও গজলে একাধিক গুণী ওস্তাদের কাছে তামিল গ্রহণ করেছেন। অল্প বয়সেই গ্রামোফোন কোম্পানি থেকে গানের রেকর্ড প্রকাশ পায় তার। প্রথম গানের রেকর্ড ছিলো- বাঁধ না তরীখানি আমার এ নদীকূলে 

গায়ীকা আঙ্গুরবালার স্মরনীয় তার প্রথম দিকে গাওয়া নজরুলগীতি। যদিও রেডিও ক্যালকাটা অগাষ্ট, ১৯২৭ এ শুরু হওয়ার পর ১৯২৯ সালে প্রথম নজরুলগীতি রেকর্ড সঙ্গীত হিসাবে প্রকাশ পায়। সেভাবে চিন্তা করলে আঙ্গুরবালার এই গানটি অর্থাৎ - "এত জল ও কাজল চোখে" ১৯২৮ সালের। তবে সঙ্গীতের এই ধারার আল্টিমেট রেফারেন্স গ্রন্থ, ডঃ ব্রহ্মমোহন ঠাকুরের নজরুল সঙ্গীত নির্দেশিকা থেকে এবং পাশাপাশি ইন্ডিয়ান রেকর্ড কালেক্টরস সোসাইটির জ্যোতিপ্রকাশ গুহ প্রণীত আঙুরবালা দেবীর ডিসকোগ্রাফিতেও এই গানটির সময়কাল দেয়া হয়েছে - জুলাই ১৯২৮

তাছাড়া আকাশবাণীর কিছু অনুষ্ঠান ও অন্য আকর গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে, নজরুলের গানের প্রথম রেকর্ড ১৯২৫ সালে প্রকাশিত "জাতের নামে বজ্জাতি সব" শিল্পী ছিলেন "হরেন্দ্র নাথ দত্ত"। যদিও নজরুলগীতি এই শব্দবন্ধ তখনও প্রচলিত হয়নি তাই বলাই যায় আঙ্গুরবালার এই রেকর্ড কিছুতেই নজরুলগীতির প্রথম রেকর্ড নয়। 

🔊 আমার মতামত - সত্যি বলতে কবি-র রচিত এই গানটি আদি কন্ঠে অর্থাৎ আঙ্গুরবালার কন্ঠে শুনে প্রথমে বিরক্ত লেগেছিলো; পরে দেখা গেলো জাদু আর মধু। কি অপূর্ব, মন ভরানো সুর আর কথা। শিল্পী মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের এর গায়কীতেও যেনো এতো সুন্দর কথা আর সুর প্রাণ পায়। নজরুলের মত কবি আর বাংলায় জন্ম হবে না এই কথাটাই যেন দুঃখ জনক ❤️ 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম